Featured On Details

দেশ জয় করে বিদেশে যাচ্ছে ‘ক্ষীরমোহন’

দেশ জয় করে বিদেশে যাচ্ছে ‘ক্ষীরমোহন’

গোয়ালন্দের সুধীর সরকার ১৯৫৮ সালে উলিপুরে এসে মিষ্টির কারিগর হিসেবে চাকরি নেন কছির মিয়ার রেস্টুরেন্টে। ক্ষীরমোহন তৈরি করে অল্পদিনেই বাজিমাত করেন সুধীর।

এরপর উলিপুরের মিষ্টান্নের কারিগর মনমোহন হালাই তৈরি করেন ক্ষীরমোহন। একই সময়ে উলিপুর বাজারে স্বল্প পরিসরে ক্ষীরমোহন তৈরি শুরু করেন সুনীল চন্দ্র মদক। এই মিষ্টির সুনাম স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় পাবনা ভাগ্যলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডার দিয়ে বসেন সুনীল। চাহিদা বাড়তে থাকায় উলিপুর উপজেলার পাবনা মিষ্টান্ন দধিঘর, ওকে হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভান্ডার, আমিন মিষ্টান্ন ভান্ডার, জলী ও শুভেচ্ছা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে তৈরি হতে থাকে ক্ষীরমোহন।
 
এখন এই ক্ষীরমোহন দেশ জয় করে ইউরোপ, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও ভারতে নিয়মিত যাচ্ছে। রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন মিষ্টি ঘরে যাচ্ছে উলিপুরের ক্ষীরমোহন।
 
এই মিষ্টি তৈরিতে উপকরণ হিসেবে দুধ, চিনি, ঘি, দুধের ছানা, ময়দা, তেজপাতা ও ছোট এলাচ ব্যবহার করা হয়। এক কেজি ক্ষীরমোহন তৈরি করতে তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি দুধ প্রয়োজন হয়। তাই গরুর দুধের ওপর নির্ভর করে ক্ষীরমোহনের বাজারমূল্য। উলিপুরে বর্তমানে প্রতিকেজি ক্ষীরমোহন ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি দোকানে দিনে খুচরায় এক থেকে দেড় মণ ক্ষীরমোহন বিক্রি হয়।
 
তবে ঢাকা, রংপুরের পাইকারি দোকান ও বিদেশে অধিক পরিমাণে যাচ্ছে ক্ষীরমোহন। ইউরোপ, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও ভারতে নিয়মিতভাবে ক্ষীরমোহন পাঠানো হচ্ছে।
 
পাবনা ভাগ্যলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পরিচালক রনি মদক বাংলানিউজকে বলেন, ক্ষীরমোহন দেশের চেয়ে বিদেশে বেশি যাচ্ছে। দোকানে প্রতিদিন এক থেকে দেড় মণ ক্ষীরমোহন বিক্রি হয়। এর থেকে কয়েকগুণ ক্ষীরমোহন ঢাকাসহ বিদেশে যাচ্ছে। লন্ডন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও ভারতে আম‍াদের ক্ষীরমোহন বিক্রি হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষীরমোহন বিদেশে পাঠাতে সরকারের অধিক পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।